সেপ্টেম্বরের রোদ্দুর এই সকাল দশটাতেই চামড়ায় তার অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। সামনে
ভাঁটার গঙ্গায় ঘোলাটে স্রোত বয়ে নিয়ে যাচ্ছে কচুরি পানা, প্লাস্টিক, ধূপের প্যাকেট,
গাঁদা ফুলের মালা। বাঁশের জেটিটা পাড় থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে গিয়ে জলে মিশেছে। ভাঁটার
জল আস্তে আস্তে জলে ডুবে থাকা জেটির অংশ ছেড়ে ছেড়ে নামছে। বাঁশের গায়ে লেগে থাকা ভিজে শ্যাওলা
রোদ পড়ে ভেলভেটের মত দেখাচ্ছে। ঠিক যেরকম ভেলভেটের লম্বা হাতা ব্লাউজের ছেঁড়াখোঁড়া
দেহাবশেষ মা এখনো যত্নে তুলে রেখেছে আলমারিতে। ব্লাউজটা দিদুর ছিল। মা এখন কি করছে
কে জানে। কাঁদছে হয়ত। সকালের ওষুধগুলো আজ আর পড়বে না। ইনসুলিনটাও। দুপুরে খাওয়ার
আগে দিয়ে দিতে হবে মনে করে। কি জানি কি খেতে দেবে আজ ওরা মাকে। পেছনে চুল্লির
ঘর্ঘর ঘর্ঘর শব্দটা একঘেয়ে হয়ে চলেছে, হয়েই চলেছে। অনেক লোকজন এসেছে। এখন ওদিকটায়
যেতে ইচ্ছে করছে না। এখানেও অবশ্য কেউ না কেউ শিগগিরই এসে পড়বে। একা থাকতে দিতে
চাইছে না কেউ। ভাবছে কিছু করে ফেলি যদি? ভাবছে কি? না বোধহয়। ওরা তো জানে, আমি খুব
শক্ত মেয়ে। কাঁদি টাঁদি না চট করে। জানে ওরা। তবুও সঙ্গ দিতে আসে। কাঁধে হাত রাখে।
রাখুক। জেটির শেষে জলে পা ডুবিয়ে বসতে পেলে ভালো লাগত। কিন্তু সে হবার নয়।
ঢং ঢং ঢং ঢং করে ঘন্টাটা বেজে উঠলো। যেতে হবে এবার। শেষের শেষটুকু হবার ঘণ্টা।
চুল্লির কোলাপ্সিবল গেটটা খুলে দিয়েছে এবার। একটা লোহার চৌকো ট্রে দুজনে
দুদিকে দুটো দড়ি বেঁধে ধরে নামিয়ে আনল। তাতে কয়েক টুকরো আগুন মাখা কালচে হলুদ ছাই
পড়ে। ট্রে টা ধরে গঙ্গায় ডুবিয়ে দিয়ে মাটির কলসি ভরে জল তুলে আনতে বলল ওরা। গঙ্গার
জলে গরম ট্রে টা ডোবাতেই ছ্যাঁক করে শব্দ করল। সেই যেমন কালীপূজোর দিন রাতে
ফুলঝুরিগুলো জ্বলে যাবার পর উঠোনের এক কোণে অল্প জল ভরে রাখা টিনের বালতিতে ফেললে
শব্দ হত। বাজি ফাটানো শুরু হবার আগেই বাবা বালতিটা রেখে দিয়ে বলে দিত আমাদের পোড়া
বাজি ওতেই ফেলতে হবে। কালো ছাইগুলো ভেসে গেল। উঠে দাঁড়িয়ে ভাইয়ার চোখে চোখ রেখে
হেসে বললাম – "Dust thou art and unto dust shalt thou return."
মাত্র এই কটা শব্দের মধ্যে কি অবলীলায় আপনি লিখতে পারেন। যদিও লেখাটা মন খারাপ করে দেওয়ার।
ReplyDelete:)
DeleteThis comment has been removed by the author.
ReplyDelete